বিআরডিবি।

নতুন বছরে আনন্দে সবাই, বিআরডিবি কর্মচারীদের কান্না

প্রকাশিত: ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২০

স্টাডি রিপোর্টার,ঢাকা:
নতুন বছরের প্রথম প্রহরে হাসি আনন্দে মাতোয়ারা সবাই। নতুন স্বপ্ন আর নতুন ভাবনায় উচ্ছ্বসিত মানুষ। কিন্তু হাসি নেই বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্মচারীদের। বুকভরা কষ্ট, চাপা কান্না, আর্তনাদ, হতাশা আর হাহাকার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনাহারে দিন পার করছেন কর্মচারীরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ও অনশন কান্না আর আহাজারি। কিন্তু তাদের খোঁজ রাখার সময় নেই যেন কারও।

বিআরডিবি কর্মচারীদের কান্না আর বাঁচার আকুতিতে ক্রমেই ভারি হয়ে উঠছে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকার বাতাস। দু-মুঠো খাবার যোগাতে কাজে যোগ দিতে চান কর্মচারীরা। দাবি শুধু চাকুরী স্থায়ীকরণ।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড কর্মচারীদের সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় এর সামনে অবস্থান নেন এবং ১ নভেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন কর্মচারীরা।

তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতভর অনশনস্থলে অবস্থান করছেন কর্মচারীরা। অনশনে অংশ নিয়ে দুই দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনজন কর্মচারী যে চে। টানা ৬০ দিনের মতো আন্দোলন চললেও মিলেনি কোনো আশ্বাস। এতে হতাশ কর্মচারীরা।

বয়োবৃদ্ধ পাটকল কর্মচারী শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, আজ কতদিন হলো না খেয়ে, অনাহারে অনশনে আছি। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। কলেজে ভর্তি করিয়েছি, টাকার জন্য পরীক্ষা দেয়াতে পারিনি। এর চেয়ে কষ্ট আর কি হতে পারে। দয়া করে এই দেশের সরকারকে আমাদের দিকে একটু তাকাতে বলেন। খুশির দিন আর আমাদের মাঝে নেই। ঘরে চাল নেই। সন্তানদের শীতের কাপড় নেই। পরনে জুতা নেই।

কাঁদতে কাঁদতে শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, সন্তানরা আমাকে বলে, দেখ বাবা আমার সাথের বন্ধুরা কত আনন্দ উল্লাস করে। তুমি আমাদের কাপড়ই দিতে পারো না। আমারে কিছু দাও। কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারি না। দয়া করে এই খবরটা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তিনি যেন আমাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেন।

কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই কর্মচারী। তার চোখের পানি দেখে আর আর্তনাদ শুনে আমরণ অনশন মঞ্চের সকলেই কেঁদে ফেলেন।

অপর এক কর্মচারী বলেন, মেয়েটা স্কুলের পরীক্ষায় ফাস্ট হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে স্কুলে ভর্তি করতে হবে। পকেটে টাকা নেই। তাই কোনো উত্তর দিতে পারিনি- এই বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আমরণ অনশনে সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ মিলের শতশত কর্মচারী অংশ নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমৃত্যু ঘরে ফিরবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন কর্মচারীরা।