ভারত

এক মাসের মধ্যে চলে না গেলে রক্ত গঙ্গা বইবে! হিন্দু বাঙালিদের চরম হুঁশিয়ারি মেঘালয়ে

প্রকাশিত: ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২০

English বাংলা news ডেস্ক: এক মাসের মধ্যে ইস্ট খাসি হিলস ছেড়ে চলে না গেলে রক্তগঙ্গা বইবে। মেঘালয়ের ইস্ট খাসি হিলস জেলায় বসবাসরত হিন্দু বাঙালিদের এ ভাবেই হুমকি দিল হানিউট্রেপ ন্যাশনাল লিবারেশন কাউন্সিল ( এইচএনএলসি ) । এইচএনএলসি র সাধারণ সম্পাদক তথা প্রচার সম্পাদক সাইনকুপার নঙট্রাউ এক বিবৃতিতে বলেছেন , ইস্ট খাসি হিলস জেলার ইছামতী ও মাজাই এলাকায় বসবাসরত হিন্দু বাঙালিদের একমাসের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাদের নির্দেশ অমান্য করলে ফল ভুগতে হবে, বলা হয়েছে চরমপত্রে। এ বার কিন্তু রক্তগঙ্গা বইবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য তাদের দায়ী করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন সাইনকুপার নঙট্রাউ।

গত শুক্রবার ইছামতীতে খাসি যুবক খুনের পেছনে হিন্দুত্ব যোগ রয়েছে বলেও বিবৃতিতে বলেছে এইচএনএলসি। উল্লেখ্য , সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ( সিএএ ) ও ইনারলাইন পারমিট ( আইএলপি ) ইস্যুতে শুক্রবার মেঘালয়ের খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ( কেএসইউ ) সদস্য ও অ-উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় দু’টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়। শিলং শত্ন সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় কার্ফু জারি করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু শনিবার সকালে নতুন করে হিংসার ঘটনার জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য যে কার্ফু জারি করা হয়।

সূত্র মতে, শুক্রবার পূর্ব খাসি হিলসের শেলার ইছামতী গ্রামে সিএ ও আইএলপি ইস্যুতে এক সভা ডাকা হয়েছিল। বলাবাহুল্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছে মেঘালয়ের কেএসইউ । সারা রাজ্যে আইএলপি বাস্তবায়নের দাবি করেছে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন । সভায় কেএসইউ সদস্য সহ এলাকায় বসবাসকারী বাঙ্গালিরা অংশ নেন । মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা সংঘর্নেরূপ নেয় । শুন্ত্রে সংঘর্ষে এসইউর চার জন সদস্য জখম হন । এদের দু ’ জনকে ইছামতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য দু ‘ জনকে ভর্তি করা হয় সোহরা হাসপাতালে।

জানা গেছে , সভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর কেএসইড সদস্যরা বাঙালিদের একটি বাড়িতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে । কেএসইউ সদস্যরা একটি বাসে করে যাওয়ার পথে পাথর দিয়ে হামলা চালায় অ – উপজাতিরা। হামলা চালানো হয় একটি টাক্সিতেও। ভাঙচুর হয় একজন ইএসির সরকারি গাড়ি। গাড়ি চালক লুসাই হইনিয়েটা গুরুতর জখম হন। পরে সোহরার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এইচএনএলসির সাধারণ সম্পাদক সাইকুপার নঙট্রাউ বিবৃতিতে বলেছে , ইছামতীতে বসবাসরত হিন্দু বাঙালিরা বেশি বাড়াবাড়ি করেছেন। খাসি যুবকের ওপর হামলার পেছনে হিন্দুত্ব যোগ রয়েছে বলেও তোপ দাগেন তিনি। দেশের রাজধানীতে হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে হামলা চালাচ্ছে , তার সঙ্গে ইছামতীর হামলার ঘটনার মিল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এইসএনএলসি বলেছে , “ হিন্দুত্ব বাহিনী সারা দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে । ঘৃণা – বিদ্বেষের ফুল কোন দিনই ভাল হয় না । দিল্লিতে সাম্প্রতিককালে সিএএ – পন্থীরা সিএ এ – বিরোধীদের ওপর চড়াও হয়েছে। দিল্লিতে যাবতীয় গগুগোলের মূলে হিন্দুত্ববাদীরা , বলেন সাইনকুপার নট্রাউ। এখন মেঘালয়ে হিংসা ছড়াতে চাইছে হিন্দুত্ববাদীরা । সিএএ কার্যকর করা হলে হিন্দু বাঙালির হানিউট্রেপ ভূমির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন বলেও জানান তিনি।

ইছামতী ও সোহরার সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলিতে অ – উপজাতিদের অধিকাংশই হিন্দু বাঙালি। এ কথা মাথায় রেখেই সিএর বিরোধিতা করছে খাসি সংগঠনগুলি। এ দিকে সোমবারও মেঘালয়ের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত হিংসা হয়েছে। শিলংয়ের মাও প্রেম এলাকায় এক বাঙালি যুবককে কাচের ভাঙ্গা বোতল দিয়ে কোপায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আদিত্য কুমার নামে যুবকের বাড়ি শিলংয়ের শিব মন্দিরে কাছে। এ দিন দুষ্কৃতীরা একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে । তবে কেউ আহত হননি।

এ দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কার্য অব্যাহত রয়েছে মেঘালয়ের বেশ কিছু জায়গায় । ইষ্ট খাসি হিলসের ডিসি মাক্তিওদর ওয়ার নত্রি জানিয়েছেন , অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে তোলা হয়েছে । মেঘালয়ের ৬টি তেলা ইষ্ট জয়ন্তিয়া হিলস, ওয়েস্ট জয়ন্তিয়া হিলস, ইস্ট খাসি হিলস, রি ‘ ভই , ওয়েস্ট খাসি হিলস ও সাউথ ওয়েস্ট খাসি হিলসে ইন্টারনেট পত্রিকা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে এসএমএস পরিষেবাও। (সৌজন্যে: যুগশঙ্খ পত্রিকা )