ভারত

আসামের মসজিদে হিন্দুত্ববাদীর আক্রমণ, পোড়ালো মসজিদ ও কুরআন

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২০
ছবি অনলাইন

English বাংলা news ডেস্ক: অসমের বড়ােভূমির বাকসা জেলায় মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কোরান শরিফ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বাসা জেলার কালপানি বাজারে। রবিবার রাতে একাংশ দুবৃত্ত কালপানি আঞ্চলিক জামে মসজিদে ঢুকে মুসলমানদের পবিত্র কোরান শরিফ ও হাদিশ জ্বালিয়ে দেয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে সােমবার হাজার- হাজার মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। আমসু সহ বিভিন্ন সংগঠন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বাকসা জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রতিবাদকারীদের তােপের মুখে শীর্ষ আধিকারিকরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, দুৰ্বত্তের দলটি মসজিদে প্রবেশ করে ১১টি পবিত্র কোরান শরিফ ও ৩টি হাদিশ জ্বালিয়ে দেয় এছাড়াও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীর ক্ষতিসাধন করে । বাকসা জেলার এই ঘটনায় অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে কোনও অপশক্তি অসমে সাম্প্রদায়িক এ বিষ ছড়াতে দিল্লির পর কি অসমকেই বেছে নিয়েছে? আমসুর পক্ষ থেকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে দুবৃত্তের দল কোরান শরিফ ও হাদিশ পােড়ানােকে ঘিরে সর্বত্র শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানাে হয়। ঘটনাকে ঘিরে কোনও দুষ্টচক্র যাতে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি না করে সেদিকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানানাে হয়েছে। আমসুর পক্ষ থেকে অভিযােগ এনে বলা হয়েছে, এর আগেও কালপানির এই জামে মসজিদে কতিপয় দুষ্কৃতী মসজিদের ছাদে শূকরের মাংস রেখে উত্তেজনা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করেছিল। এসব বিষয় জেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিটিসি প্রধান হাগ্রামা মহিলারি। তিনি বলেন , বিটিসি নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে এই ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণােদিত। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ওদালগুড়ি জেলায় তাঁর দলের কর্মী খায়রুল ইসলামকে হত্যা করে হিংসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে ইসলাম ধর্মাবলম্বী লােকদের মনে আঘাত সৃষ্টি করতে আরও এক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তিনি এই দুটি ঘটনাই একটি চক্রের কাজ বলে দাবি করেন। নির্বাচনে ফায়দা তুলতে কোনও গােষ্ঠী একাজে জড়িত বলেই তিনি মত প্রকাশ করেন । তবে তিনি এই দুটি ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়ালের সঙ্গেও আলােচনায় মিলিত হবেন বলে জানান তিনি। বিজেপির সঙ্গে মিত্রতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিজেই হাইকমান্ড। তাছাড়া মিত্রতার বিষয়টি যখন হাইকমান্ডের হাতে সেখানে মাঝখানে কারও মন্তব্যের কোনও গুরুত্ব নেই। বিজেপির সঙ্গে মিত্রতা আছে বলেই দিল্লি ও দিসপুরে সরকার চলছে। (সৌজন্যে: যুগশঙ্খ পত্রিকা, রিপোর্ট:প্রসেনজিৎ গুপ্ত)