ডিসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখার জন্য, চাকুরী হারালেন জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া শিল্পী শফি

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২০
জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া শিল্পী শফি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ফেসবুকে ডিসির বিরুদ্ধে লেখার কারণে চাকুরী হারালেন জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া শিল্পী ও কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শফি । চাকরীচ্যুত হওয়ার পর ভয়ে মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না তিনি। কিন্তু বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মধ্যরাতে গ্রেফতার করে রাতভর নির্যাতন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড প্রদানসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের হত্যা, গুম, হামলা, মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদ শুরু হলে শফিকুল ইসলাম শফি নিজের ফেসবুক ওয়ালে তার চাকরী হারানোর বিষয়টি লিখেছেন।

বিষয়টি নিয়ে শফিকুল ইসলাম শফি সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন।

পরে কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইংলিশ বাংলা নিউজকে বলেন শফিকুল ইসলাম শফি গত আট বছর ধরে আমাদের এখানে অতিথি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যথেষ্ট পরিমাণে ফান্ড না থাকায় আপাতত তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময় অন্য কোথা থেকে ফান্ড পেলে আবার তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তবে শফিকুল ইসলাম শফির ফেসবুক পোস্ট নিম্নে দেয়া হল।

সম্মানিত সুধী,
আমি আপনাদের ভালোবাসায় ধন্য ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী শফি, গরিব মানুষ গান গেয়ে কোন রকমে জীবন চালাই, আমার বাবা একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা. কিন্তু তাঁর সার্টিফিকেট আমার জীবনে কোন কাজে লাগেনি, আমার গান শুনে সন্তুষ্ট হয়ে পূর্বের ডিসি হাবিবুর রহমান মহোদয় কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে খুব সামান্য বেতনের একটি চাকরি দেন, আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি গান গেয়ে আমার পারিবারিক জীবন নির্বাহ করি। আপনাদের দেয়া সম্মান, ভালোবাসা, স্নেহ নিয়েই জীবন পার করছি আমি, গতবছর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে একটি চিঠি দেয়া হয়ে ছিল, চিঠিতে লেখা ছিল কুড়িগ্রাম জেলায় দশটি স্কুলে হারমোনিয়াম এবং তবলা বাবদ 1 লক্ষ 60 হাজার টাকা বরাদ্দ, আমি সহ কুড়িগ্রামের আরো দুজন এই টাকা খরচ কমিটির সদস্য ছিলাম। এই ডিসি ছিলেন তার সভাপতির দায়িত্বে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হারমনিয়াম তবলা কেনাকাটার সময় আমি কিছুই জানতাম না। হারমোনিয়াম এবং তবলা গুলো এতই নিম্নমানের ছিল যে বাজারের হকাররাও এর চেয়ে ভালো হারমোনিয়াম তবলা ব্যবহার করেন, হারমোনিয়াম এবং তবলার এই মান দেখে আমার অনেক কষ্ট হয় তাই সেদিন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, সেই পোষ্টটি ডিসি সাহেব দেখার পর আমাকে ডেকে পাঠালেন, এবং নানান অকথ্য ভাষায় আমাকে গালাগালি করলেন, চাকরি হারানোর ভয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে গেলাম. দু’এক জায়গায় কষ্টটা শেয়ার করেছি. কিছু তেলবাজ এই খবর তার কানে আবারো দেয়, এবং তারপর গত পরশু এই ডিসি আমাকে চাকরীচ্যুত করেন, আমি লজ্জায় কাউকে বলিনি আজ সময় বুঝে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সে সারাদিন কাজ করে নিয়ে আমাকে যে বেতন দেন সেটাও লজ্জায় বলতে পারছি না। তবুও আমার প্রয়োজনে কাজটি করেছিলাম, আপনাদের কাছে প্রশ্ন আমার দারা কি কুড়িগ্রামের কোন কাজ হয়নি? আপনারা জানেন বেতার, টিভি, দেশ, বিদেশে কুড়িগ্রামের শুনাম করে বেরাই আমি।।