লালমনিরহাট

জাতীয় পর্যায়ে মৌমিতা রহমান ঈপ্সিতার যতো অর্জন

প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২০
মৌমিতা রহমান ঈপ্সিতা

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, রত্নাই বিধৌত্ব সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলা হলেও একদম পিছিয়ে নেই এখানকার মানুষের মেধার বিকাশ। সারা দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে মেধা যাচাইয়ে শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে অনেক মেধাবী মানুষ। আর জাতীয় পর্যায় পৌচ্ছে দিচ্ছে মেধার ঝলকের সাথে সাথে নিজ জেলার মান। এ রকম অনেকের মধ্যে সাংস্কৃতিক জগতের বহু প্রতিভার অধিকারী ঈপ্সিতা। পুরো নাম মৌমিতা রহমান ঈপ্সিতা। তাঁর বাবা দূর্নীতি দমন কমিশন (দূদক) পিপি অ্যাড. মশিউর রহমান, মাতা লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. মাসুমা ইয়াসমিন, ছোট বোন মৌলি মালিহা ঈদিতা। তাঁদের পরিবার লালমনিরহাট পৌরসভার নামাটারী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থী। মৌমিতা রহমান ঈপ্সিতা অনেকের মধ্যে ব্যতিক্রম হয়ে সৃজনশীল ভাবে প্রাইমারী, স্কুল, কলেজ জীবনে এসেও জাতীয় ভাবে ঝলক দেখিয়ে দিয়েছেন।

মৌমিতা রহমান ঈপ্সিতা

থেমে নেই ঈপ্সিতার আবৃত্তি, অভিনয়, গান করা, রচনা প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, বির্তক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বিভিন্ন দিক থেকে হাস্যজ্জ্বল ঈপ্সিতা মেধা ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে ৪শতর অধিক পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছেন। সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ঝলক দেখিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ১৯বার। সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় ২০১৬ সালের মে মাসে জাতীয় ভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী-এঁর হাত থেকে পুরস্কৃত হন। ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে সৃজনশীল মেধা অন্বেষনে “ভাষা ও সাহিত্য” বিষয়ে বছরের সেরা মেধাবী হিসেবে স্থান করে নেয় ঈপ্সিতা। যা ২০১৬ সালের ২২ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে ঢাকাস্থ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঈপ্সিতাকে পুরস্কৃত করেন। সেই সাথে অগ্রণী ব্যাংক ১লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করেন ঈপ্সিতাকে। আজীবন লেখাপড়ার খরচ বহনের সুযোগ করে দেন এবং বিদেশ শিক্ষা সফরের সুযোগ পান সে। ২০১৬ সালের ২৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬ কবিতা আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ আবৃত্তিকার নির্বাচিত হন। যা ২০১৬ সালের ২৮ মে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে ঢাকাস্থ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঈপ্সিতাকে পুরস্কৃত করেন। ২০০২ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আব্দুল হামিদ (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) ঈপ্সিতার বাসায় এসেছিলেন। তাঁকে কোলে নিয়ে আদর করেছিলেন আব্দুল হামিদ। সেই শিশুটি আজ মেধাবী হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেলেন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে। আশাময় জীবন যেন বাস্তবেই রূপ পেল ঈপ্সিতার। ঈপ্সিতা জানালেন বিদেশ ভ্রমণের এক দারুন অনুভূতি। সৃজনশীল মেধা অন্বেষনে “ভাষা ও সাহিত্যে” বছরের সেরা মেধাবী হওয়ায় ২০১৬ সালের ১ জুন মালোশিয়ায় শিক্ষা সফরের ঈপ্সিতাসহ ১১জনের একটি টিম ঢাকা থেকে রওনা দেন। সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক কামাল হায়দার ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ডিডি। টিমটি মালোশিয়ার ম্যালাকা, কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দময় সময় পার করে ৭ জুন দেশে ফিরে।
মৌমিতা রহমান ঈপ্সিতা জাতীয় পর্যায়ে ইতিপূর্বে অংশগ্রহণ করে ২০০৫ সালে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত অভিনয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং একই সংগঠন থেকে ২০০৬ সালে অভিনয়ে প্রথম হন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত অভিনয়ে প্রথম ও একই সালে বৈশাখী টিভির পদ্মকুড়িতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সবাইকে তাক লাগান। ২০০৮ সালে রংপুর আর্ট একাডেমী সম্মিলিত মেধা তালিকায় রানার্স আপ হন। ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত অভিনয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত অভিনয়ে প্রথম ও মৌসুমী প্রতিযোগিতা ২০১১-২০১২ জ্ঞান জিজ্ঞাসায় প্রথম হন। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত ২০১২ সালে অভিনয়ে প্রথম ও আবৃত্তিতে দ্বিতীয় স্থানের গৌরব অর্জন করেন। একই সংগঠন থেকে ২০১৩ সালে অভিনয়ে প্রথম হন। ২০১৩ সালে অপর আর একটিতে অর্থাৎ বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত অভিনয়ে প্রথম হন এবং ওই একাডেমীর ২০১৪ সালে আবারও অভিনয়ে প্রথম স্থান লাভ করে। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত ২০১৩ সালে অভিনয়ে তৃতীয় ও আবৃত্তিতে তৃতীয় স্থান দখল করেন। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলাকে যেন ঈপ্সিতা পুরস্কারের ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে। ২০০৫ সালেও অভিনয়ে দ্বিতীয় ও আবৃত্তিতে প্রথম স্থানের সম্মানি পুরস্কার হাতে এসে পৌছে তাঁর।
ঈপ্সিতা লেখাপড়ায় যেমন তুখোর তেমনি মেধাবী বাকি সব কাজেও। ইতিমধ্যে রৌপ্য পদক ও স্বর্ণপদক লাভ করেছেন মেধার মাধ্যমে। বাংলাদেশ বেতার ও বিভিন্ন টেলিভিশনে ইতিপূর্বে তাঁর উপস্থিতিতে দারুন ভাবে সাড়া পড়ে। ঈপ্সিতাকে নিয়ে লালমনিরহাট জেলাবাসী গর্ব করে। সে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।
লেখক ও সাংবাদিক লালমনিরহাট। মোবা: ০১৭৩৫৪৩৮৯৯৯