লালমনিরহাটের একজন সফল প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক সরকার

প্রকাশিত: ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২০
প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক সরকার

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট: মোঃ একরামুল হক সরকার লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্যান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ৮ভাই- বোনের মধ্যে তিনি কনিষ্ট। বাবা প্রয়াত আবু তালেব সরকার স্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম সরকার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড লালমনিরহাট শাখার সিনিয়র অফিসার। তাঁর সহধর্মীনি মমতাজ সরকার তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক। ১ম ছেলে মুহতাসিম ফুয়াদ সরকার মাহী ও ১ম মেয়ে ইপশিতা ইবনাত সরকার এশা।

মোঃ একরামুল হক সরকার তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশসহ সর্বশেষ কারমাইকেল কলেজ থেকে এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ডিগ্রী অর্জন করেন। গত ২০০১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঐতিহ্যবাহী তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে যোগদান করে কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। তিনি তাঁর কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে শিক্ষকতা করেন, যার ফলে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি ২০১৩ সালের ২ মে উক্ত বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক, ২০১৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এবং ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করে অদ্যাবধি অত্যন্ত সুনামের সহিত বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। তিনি ইন্স্যুরেন্স, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা শাখার সহসভাপতি পদে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

ঐতিহ্যবাহী তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়টি লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নে অবস্থিত একমাত্র জেলার বেসরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি বৃটিশ আমলে তথা ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টির দূরের শিক্ষকদের থাকার জন্য শিক্ষক কোয়ার্টার রয়েছে। দূরবর্তী ৫জন শিক্ষক পরিবারসহ উক্ত কোয়ার্টারে থেকে বিদ্যালয় করছেন। এছাড়াও তিস্তা ঐতিহ্যবাহী ফুটবল খেলার মাঠটি বিদ্যালয়ের।

বিদ্যালয়টিতে ১টি ২য়, ৩য় ও ১তলা বিশিষ্ট ২টি ভবন, ১টি পুকুর রয়েছে। আইসিটি ও বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারের জন্য “শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব” ও উপজেলায় প্রথম প্রতিষ্ঠিত “বিজ্ঞান ক্লাব” সহ বিজ্ঞানাগার রয়েছে। সততা ষ্টোর, স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট, স্কাউট দল, অভিভাবক সমাবেশ, নিয়মিত হোম ভিজিটসহ জাতীয় দিবস গুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বই পড়ায় উৎসাহিত করার জন্য ২হাজার ৫শত বই বিশিষ্ট একটি সুবিশাল লাইব্রেরি রয়েছে। বিদ্যালয়ের দক্ষ শিক্ষকগণ মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লাস আকর্ষণীয় করছেন। বরাবরই জেএসসি ও এসএসসি পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল ভাল হয়।

বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষাক্রমে এগিয়ে আছে। বির্তক, কুইজ, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, রচনা, চিত্রাংকন, ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতারসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ সাপেক্ষে বিভিন্ন স্থান অধিকার করে। বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮ সাঁতার প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে রংপুর বিভাগের ৭জন শিক্ষার্থী সাঁতারু অংশগ্রহণ করে, তার মধ্যে ৫জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতার (বালক) উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শতভাগ পুরস্কার অর্জন করে এবং ৪৭তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অ্যাথলেটিক্সে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সংখ্যক পুরস্কার অর্জন করে। ৪৮তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডিতে উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং সাঁতার (বালক) উপজেলা পর্যায়ে ২৬টি পুরস্কারের মধ্যে ২২টি, জেলা পর্যায়ে ১৮টি, উপ- অঞ্চল পর্যায়ে ৭টি, আঞ্চলিক (রাজশাহী) পর্যায়ে ২টি অর্জন করে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তঃ জেলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট এ বিদ্যালয়টি রানার্স আপ হয়। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের দক্ষ নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ ও ২০১৯ পর পর দুইবার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়।

লালমনিরহাট জেলার নেতৃত্বদানকারী অনেকেই এ বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র ছিলেন। তন্মধ্যে লালমনিরহাট-০৩ (লালমনিরহাট সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আলহাজ্ব ইঞ্জিঃ আবু সালেহ মোঃ সাঈদ দুলাল, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. মতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. নজরুল ইসলাম রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন। এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নাটোর এর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আশরাফসহ অনেক চিকিৎসক, প্রকৌশলী, জজ, এসপিসহ ঊর্ধ্বতন পদস্থ কর্মকর্তা এ বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র ছিল।

বিদ্যালয়টির সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন এলাকার সুধীজনসহ ম্যানেজিং কমিটি। আমিনুল ইসলাম হাসান এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। অন্যান্য অভিভাবক সদস্যগণ হচ্ছেন- রুহুল আমিন দুলু, জামিনুর সরকার লাভলু, সৈকত আহম্মেদ বাবুল, ফারুকুল ইসলাম পাখি। এছাড়াও রয়েছে বিদ্যালয়টিতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী।

তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক সরকার বলেন, যেহেতু এই বিদ্যালয়ের আমি এক সময় ছাত্র ছিলাম, অনেক স্মৃতি জড়িত আছে এ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির শিক্ষার গুণগতমানসহ সার্বিক উন্নয়নে শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য যে, তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মাদার তেরেসা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ পেয়েছেন।
লেখকঃ সাংবাদিক ও সম্পাদক, সাপ্তাহিক আলোর মনি, লালমনিরহাট। মোবাঃ ০১৭৩৫৪৩৮৯৯৯