বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ৬০কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট: দেশের বাস্তব অবস্থায় গণপরিবহনে রেলওয়ের উন্নয়ন ছাড়া আর অন্য কোন বিকল্প পথ নেই। দেশের রেলওয়ের নেটওয়ার্কে রেল লাইনের দু-পার্শ্বে রেল অধিগ্রহণকৃত জমি রয়েছে। তাই রেলওয়েকে ‘ডাবল লাইনে’ উন্নত করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে গণপরিবহনে বর্তমান জনসংখ্যার চাপ মোকাবেলা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ (৬০কিলোমিটার) নতুন রেলপথ নির্মাণ উত্তরবঙ্গের সকল জেলায় সুফল বয়ে নিয়ে আসবে। বর্তমানে ট্রেনযোগে ঢাকা যেতে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ ৬০কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সান্তাহার-নাটোর-ঈশ্বরদী-উল্লাপাড়া হয়ে প্রায় ২০০কিলোমিটার ঘুরে ও ৪ঘন্টা অপচয় করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে যেতে হচ্ছে। তাই রেল যাত্রা মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। ফলে রেল বিভাগা কাঙ্খিত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেল সংযোগ দুর্বলভাবে নির্মাণ করায় বর্তমান শুধুমাত্র খাদ্য, তেল ও সার ছাড়া অন্য কোন পণ্য রেল বিভাগ পরিবহন করতে পারছে না। পূর্বের ব্যবস্থায় রেলওয়ে ফেরি পারাপার বিগত ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নষ্ট হচ্ছে ফেরি ও স্থাপনাসমূহ। ফলে সড়ক ও জনপথের উপর চাপ পড়ছে এবং রেল বিভাগ বিপুল বাণিজ্যিক আয় থেকে বঞ্চিত হয়ে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু রেল সংযোগ দিয়ে ২৪ঘন্টায় ২৬টি ট্রেন উত্তরবঙ্গসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যাওয়া-আসা করছে। সেতুর ৯কিলোমিটার রাস্তা পার হতে প্রতিটি ট্রেন ধীরগতি হওয়ায় ২৮মিনিট থেকে ৩০মিনিট পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। সেই সাথে মাল ট্রেনসহ অন্যান্য বিশেষ ট্রেন রয়েছে যা উক্ত দুর্বল রেল সংযোগের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে গাইবান্ধা (তিস্তামুখ ঘাট) জামালপুর সংযোগের মাধ্যমে একটি রেলসেতু/ টানেল নির্মাণ করে রেলের বিকল্প রুট চালু করা প্রয়োজন এবং যুক্তিযুক্ত। তাহলে ঐ লাইন দিয়ে যাত্রীসহ মালবাহী গাড়ি ও সব ধরনের পণ্য পরিবহন করা সহজতর হবে। যদিও এ বিষয়ে বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তরে একটি নতুন রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। যার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। লালমনিরহাটের বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকাগামী একটি রাত্রিকালীন অন্তঃনগর (প্রস্তাবিত করিডোর এক্সপ্রেস) ট্রেন চালু করার কথা অনেকদিন থেকে শুনা যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও উক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছেনা। তাই প্রস্তাবিত আন্তঃনগর ট্রেনটি চালু করলে সাধারণ জনগণের নিরাপদে ও স্বল্প খরচে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত সহজতর হবে, সড়ক ও জনপথের চাপ কমবে, রেলের আয় বৃদ্ধি পাবে। উক্ত রুট দিয়ে বর্তমান ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আগত যাত্রী ও ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাপদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবে। উক্ত ট্রেনটি চালুর বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। যা হতে পারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের রেলওয়ে সেবার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও মাইল ফলক।
(আগামী পর্বে: ইমিগ্রেশন চালু)
লেখক ও সাংবাদিক লালমনিরহাট। মোবাঃ ০১৭৩৫৪৩৮৯৯৯