পরিত্যক্ত লালমনিরহাট-মোগলহাট রেললাইন পূন চালু ও ভারতের সাথে রেল সংযোগ পুণঃস্থাপনের দাবী

প্রকাশিত: ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ, মে ১১, ২০২০
পরিত্যক্ত মোগলহাট ভারত সীমান্ত রেলওয়ে ব্রিজ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট রেলের বিভাগীয় রেলওয়ে সদর দপ্তর থেকে মোগলহাট রেল স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ১০কিলোমিটার। উক্ত রেল স্টেশনটি রেল বিভাগ ২০০৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। ফলে রেলের মূল্যবান সম্পদগুলি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ রেল রুটটি ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ভারতের সাথে পণ্য পরিবহনের জন্য চালু ছিল। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগ ভারতের সাথে রেল যোগে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল যা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। অতি সম্প্রতি লালমনিরহাটের পার্শ্ববর্তী ভারতের কোচবিহার জেলার এমপি পার্থ প্রতিম রায় এই রেল রুটটি পূণঃরায় চালুর জন্য ভারতীয় লোকসভায় জোড়ালো দাবি উপস্থাপন করেন। ফলে ভারত সরকারও এ বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে মর্মে সে দেশের সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। লালমনিরহাট-কোচবিহার-আলীপুর দুয়ার-ভূটান এই রেল রুটটি ডুয়েল গেজ ডবল লাইন চালু হলে ভূটানের সাথে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন সহজতর হবে। কারণ এই রুটে ভূটানের দূরত্ব কম। এই রেল রুটটি চালু হলে ভারত, নেপাল, ভূটান ত্রি-দেশীয় পণ্য পরিবহনে রেল বিভাগ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এতে সড়ক বিভাগের উপর চাপ কমবে এবং কার্বন নির্সরণ বন্ধ হয়ে পরিবেশ দূষন রোধে সহায়ক হবে। বর্তমান ভারতের সাথে পূর্বের ১২টি বন্ধ রুটের মধ্যে ১টি রুট চালু হবে এবং সার্বিক ভাবে লালমনিরহাটের রেল বিভাগের কর্ম-চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে। তাই দেশের স্বার্থে পূর্বের ন্যায় পরিত্যক্ত লালমনিরহাট-মোগলহাট রেললাইন পূন চালু ও ভারতের সাথে রেল সংযোগ পূনঃস্থাপন করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছে লালমনিরহাট জেলাবাসী। (আগামী পর্বে: করতোয়া এক্সপ্রেসকে বুড়িমারী-ঢাকা ও লালমনিরহাট-এনজিপি (শিলিগুড়ি) আন্তদেশীয় ট্রেন চালু)।
লেখক: সাংবাদিক ও সম্পাদক, সাপ্তাহিক আলোর মনি, লালমনিরহাট। মোবা: ০১৭৩৫৪৩৮৯৯৯