অটোয়ার চিঠি: একদিন এমন ছিলো জীবন…..

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২০

সুলতানা শিরীন সাজি, কবি, অটোয়া: একদিন এমন ছিলো জীবন, সামান্য জ্বরজারি, কাশিতেই নুয়ে পড়তো দেহ, ইচ্ছে করতো বুকের কাছে ফুল আঁকা কম্বলটাকে সরিয়ে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে থাকি।
ইচ্ছে করতো কপালের ঘন উত্তাপ সরিয়ে দেই হাতের তালুর যাদুকরী কারুকাজে।
তুমি কি সাহেবজাদা, তুমি কি সম্রাট আকবরের উত্তরসূরী?
তোমার অঙ্গুলীহেলনেই ঝুমঝুম বৃষ্টি কাহন!
তোমার চোখের আসমুদ্র হিমাচলে ঘুরে বেড়ায় একশো তিয়াত্তরটা গাঙচিল।
জল ছুঁইছুই সেই চোখ।
সেখানেই ডুব দিয়ে থাকি।
একদিন কাছেকাছে ঘুরে ঘুরে দূরে চলে যাই।
দূর্বাঘাসের ডগায় যতটুকু জলের দাগ, কে তা দেখে বলো?
কে মনে রাখে ইচ্ছে বকুল ফুলের ঘোরে সুবাসিত দিন?
একদিন তেমনিতো ছিল, ঘুঘুডাকা ঘন দুপুরের চেনা খুনসুটি!
একদিন চেনা গান, চেনা সুর ফেলে উড়ে চলে যাই বহু দূর!
“চোখ খোলা তবু চোখ বুজে আছি কেউ তা দেখেনি” কোথায় সুনীল? কোথায়বা নীরা?
কার মন ভালো, কার ভালো না, কিবা এসে যায়?
একদিন গেছে। আরো দিন যাবে।
পৃথিবীর অসুখ ভালো হলে পর, বুকের ভিতরে পরম আদরে, ছুঁয়ে দিও হাত।
আমার আকাশে ইচ্ছে ঘুড়ি হয়ে কেবলি উড়ো।
সাহেবজাদা।
একদিন আবার ইচ্ছে মতন চেনা ফুলেদের গন্ধে বিভোর!
একদিন আবার বুকের ভিতরে চেনা আহ্লাদে বিমোহিত মুখ!
(নাহলে একদিন, ইচ্ছে আকাশ জল ফুল সুখ অসুখ বিমোহিত।
শব্দগুলো উড়ে বেড়াবে একা!
একা এবং একা)
মে ১৭’২০২০
অটোয়া
(সুলতানা শিরীন সাজি-এর ফেসবুক থেকে নেয়া।)