কালীগঞ্জে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ নিতে ছুটে গেলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর

প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০২০

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র ঈদ উল ফিতরের দিন সকালে ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে প্রায় ২শতাধিক ঘরবাড়ি। সবাই যখন পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখন ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের খোঁজ নিতে ছুটে গেলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর। এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান, কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মুর্শিদ হক উপস্থিত ছিলেন।
সোমরাব ২৫ মে ভোর ৬টার দিকে ঝড় বৃষ্টিতে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে লন্ডভন্ড হয় কালীগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম। গাছপালা ভেঙে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঘর বাড়ি। তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদুৎ সংযোগ। ঝড়ের তাণ্ডবে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫জন।
তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার শিয়ালখোওয়া, নিথক, গোড়ল, চাপারহাট এবং ভোটমারী এলাকা।
জানা যায়, ঈদের দিন সকালে হঠাৎ করে আকাশে ঘন মেঘ দেখা দেওয়ার পরেই ঝড়ের তান্ডবে মুহূর্তে অর্ধশত বসতবাড়ি, গাছপালা, বিদ্যুৎতের খুঁটি, সবজি ক্ষেত, ধান ক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঝড়ে উড়ে গেছে ঘরের টিন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে মাবনবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ঝড়ে শিশু শিক্ষার্থীদের বই খাতাসহ অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ রুস্তম আলী সাংবাদিকদের বলেন, ঘুম থেকে উঠে ঈদের নামাজ পড়তে বের হবো সেই মুহুর্তে শুরু হল ঝড়। এতেই লন্ডভন্ড হয়ে গেল দুই শতাধিক ঘরবাড়ী।
কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২শত ৬৯টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা করেছি এবং আজ রাতেই তাদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে আজ রাতেই দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে লালমনিরহাট জেলায় ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ২০কেজি চাল, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি সাংবাদিকদের বলেন, চলবলা ইউনিয়নে ঘূর্ণি ঝড়ের আঘাতে ২শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লণ্ডভণ্ড হওয়ার বিষয়টি জেনেছি, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।