৬২’র যুদ্ধে ভারতকে করুণা করে অরুণাচল ফিরিয়ে দিয়েছিলো চীন

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০
ছবি: অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক: ২০২০ সালের মত ১৯৬২ সালেও সীমান্ত নিয়ে বিরোধ থেকেই যুদ্ধ হয় দুই দেশের। চীন আগেই তিব্বতকে দখল করে। পরে বর্তমানে ভারতের অধীনে থাকা ‘অরুণাচল প্রদেশ’ ও ‘আকসাই চীন’কে নিজেদের পুরনো ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। এতেই সীমান্তে শুরু হয় সমস্যা। যা গড়ায় যুদ্ধের দিকে।

যুদ্ধরত দুই দেশকে কোন কোন দেশ সমর্থন করেছিলো?
দুই দেশের যখন যুদ্ধ চলছে, ঠিক তখন বিশ্বের নানা দেশ যুদ্ধরত দুই দেশকে সমর্থন দেয়। ভারতের পক্ষে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য। আবার চীনের সমর্থনে এগিয়ে আসে ভারতের কথিত চিরশত্রু পাকিস্তান। ওই সময় চীনের সঙ্গে গভীর মিত্রতা গড়ে তোলে পাকিস্তান।
চীনকে নিয়ে ভারতের দুই শক্তিধরের ভিন্ন মত
যুদ্ধের আগে চীনকে অতিরিক্ত সহানুভূতির মনোভাব বা অবহেলার চোখে দেখেছিল ভারত। ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীনের স্থায়ী সদস্য পদ পেতে সমর্থন করে। ভারতের ধারণা ছিল, চীন কখনই ভারতের ওপর হামলা করার দুঃসাহস দেখাতে পারবে না। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চীনকে সহজভাবে নিয়েছিলেন। এ নিয়ে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান কোদানদেরা সুবাইয়া থিমাইয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মনোমালিন্য ছিল। কারণ সেনাপ্রধান চীনকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতেন।
এ যুদ্ধে জওহরলাল নেহেরু কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি চীনের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সহাবস্থানের ব্যাপারে জোর দেন। কেননা তিনি চীনের সম্ভাব্য ভারত আক্রমণ সম্পর্কে আশঙ্কা করেন।
যুদ্ধের ফলাফল
যুদ্ধে বিজয় হয় চীনা সামরিক বাহিনী। জয়ী হয়ে একতরফা যুদ্ধবিরতি জারি করে চীন। আকসাই চীন নিজের দখলে রাখে কিন্তু অনেকটা করুণা করেই অরুণাচল প্রদেশ ফিরিয়ে দেয় ভারতকে। সে যুদ্ধের পর সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ভারত। এরপরই শান্তিবাদী বিদেশনীতিও কিছুটা পরিবর্তন আনে দেশটি।