উদকনিক প্রকল্পের মাধ্যমে হাজারো নারী পুরুষের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০
ছবি: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড এর উদকনিক প্রকল্পের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

স্টাফ রিপোর্টার: উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা তাঁরা। স্বামীর স্বল্প আয়ের সংসারে লেগেই থাকত অভাব। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির সহযোগিতায় সংসারের অভাব দূর করতে ঘরের বউ-ঝিরা নেমে পড়লেন কাজে। সবাই এখন স্বাবলম্বী। প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন : মোঃ নাজির হোসেন, প্রোডাকশন ম্যানেজার, উদকনিক বিআরডিবি, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

গৃহিণী কাকলি বেগম (৪৫) টানাটানির সংসারে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। দিনমজুর স্বামী আলমের মাসিক আয় মাত্র দুই হাজার টাকা। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থায় সংসারে অভাব লেগেই থাকত। দুই ছেলের পড়ালেখাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি তাঁদের সংসারে আশীর্বাদ হয়ে আসে। কাকলি বেগমের বাড়ি রৌমারী উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার যাদুর চর পূর্বপাড়ায়। গৃহিণী কাকলি বেগম মতো উপজেলার ৬০০ নারী বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির সহযোগিতায় এখন স্বাবলম্বী। তাঁরা এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই সংসারের হাল ধরেছেন।

কাকলি বেগম বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও সংসারের অভাব পিছু ছাড়েনি। এক বেলা খেলে অন্য বেলা খাবার জোটাতে কষ্ট হতো। এখন আর সেই অভাব নেই। বড় ছেলে মো. জাহাঙ্গীর ১০ম শ্রেণি ও ছোট ছেলে আবুল কাসেম ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।’

তাঁর সফলতার কথা জানতে চাইলে জানালেন, তিনি ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে দর্জির জন্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির উপকরণ সহায়তার জন্য নির্বাচিত হন ও প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন নিয়ে বাড়িতে দর্জি কাজ শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি থেকে ৬% সুদে ১৫০০০ টাকা লোন গ্রহণ করেন। গবাদিপশু, পাখি পালন ও শাকসবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে শাকসবজি চাষ, গাভি ও মুরগি পালন শুরু করেন। বাড়ির আশে পাশে ক্ষুদ্র খামার করে তাঁর বাছুরসহ ৩টি গরু ও ২০টি মুরগি রয়েছে। বাড়ির আশেপাশে রয়েছে বিভিন্ন রকমের মৌসুমী সবজি ক্ষেত। প্রতিমাসে এখন তাঁর মাসিক আয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ পেয়ে মাছচাষ, শাক-সবজি উৎপাদন, হাঁস-মুরগি পালনে উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করায় আশানুরূপ ফল পেয়েছি।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন হাজারো নারী পুরুষ স্বাবলম্বী।

আরফিনা নুসরাত/ সিনিয়র রিপোর্টার
ইংলিশ বাংলা নিউজ ডটকম