কারাগারে থাকলেও বরখাস্ত হননি সেই যৌতুক লোভী স্বাস্থ্য সহকারী!

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২০

লালমনিরহাট: স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সেই স্বাস্থ্য সহকারী ভবেশ চন্দ্র রায় ওরফে উত্তমকে (৩২) এখনো বরখাস্ত করা হয়নি। ফলে ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বাদী।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দিনগত রাতে উপজেলার মহিষাশ্বহর এলাকা থেকে আদিতমারী থানা পুলিশ ভবেশ চন্দ্রকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী ভবেশ চন্দ্র রায় ওরফে উত্তম উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি মহিষাশ্বহর গ্রামের মৃত নিরঞ্জন কুমার রায়ের ছেলে। তিনি আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী পদে কমলাবাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত।

বিধি মোতাবেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলা নথিভুক্ত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে পাঁচ দিন ধরে কারাগারে অবস্থান করলেও স্বাস্থ্য সহকারী ভবেশ চন্দ্রকে বরখাস্ত করা হয়নি। ফলে ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্যাতনের শিকার মামলার বাদী বিথী রানী। তবে অফিসিয়ালভাবে কোনো চিঠি না পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, ভবেশ চন্দ্র রায় উত্তম ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট পার্শ্ববর্তী মহিষখোচা গ্রামের মৃত জগদীশ চন্দ্রের মেয়ে বিথী রানীকে নোটারী পাবলিক ও সনাতন ধর্মমতে বিয়ে করেন। বিয়ের এক বছর না যেতেই যৌতুক লোভী ভবেশ বিথীর কাছে যৌতুক বাবদ আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন। বিথীর গরিব বিধবা মা টাকা দিতে না পারলে পাষণ্ড স্বামী উত্তম মারপিট করে বিথীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দেন।

এ ব্যাপারে বিথী আদালতের আশ্রয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (৭০/২০১০) দায়ের করেন। এ মামলার বিচার কার্য শুরুর একপর্যায়ে কৌশলি ভবেশ চন্দ্র আগামীতে যৌতুক দাবি করবেন না এবং স্ত্রীকে নির্যাতন বা দ্বিতীয় বিয়ে করবেন না মর্মে আপস মীমাংসায় লিখিত দিয়ে আদালত থেকে মামলার নিষ্পত্তি পান।
কিছুদিন আগে স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে আপসের শর্ত ভেঙে যৌতুক লোভী ভবেশ দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাতে বাধা দেওয়ায় পুনরায় যৌতুকের আড়াই লাখ টাকা দাবি করে বিথীর উপর নির্যাতন চালায় ভবেশ। গত ৮ আগস্ট যৌতুকের আড়াই লাখ টাকা আনতে জোর করে বাবার বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করে ভবেশ। কিন্তু টাকা আনতে বাবার বাড়ি না যাওয়ায় বিথীকে বেদম মারধর করে টেনে হিঁচড়ে বাচ্চাসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ভবেশ ও শ্বশুরবাড়ির অন্যরা।

স্থানীয়দের সহায়তায় আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি হন আহত বিথী। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে ১৬ আগস্ট স্বামী ভবেশ চন্দ্রসহ তিন জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বিথী। সেই মামলায় অভিযান চালিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে যৌতুক লোভী স্বামী ভবেশকে গ্রেফতার করে পরদিন আদালতে পাঠায় আদিতমারী থানা পুলিশ। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ভবেশকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন স্বাস্থ্য সহকারী ভবেশ চন্দ্র।

এদিকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ভবেশ চন্দ্রকে তিন কর্মদিবস অনুপস্থিত দেখিয়ে তার কর্মস্থলে অন্যজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বাদী বিথী www.englishbanglanews.com বলেন, বিধিমত ভবেশকে বরখাস্ত না করায় ন্যায় বিচার নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। আমি গরিব ও নির্যাতিত নারী কোথায় যাব? কার কাছে যাব? কিছুই বুঝি না। তারা তো প্রভাবশালী টাকা আর ক্ষমতা দিয়ে সব ম্যানেজ করে চলছে। বরখাস্ত থেকে যেভাবে বেঁচে যাচ্ছে। একইভাবে শাস্তি থেকে বেঁচে যাবে বলেও বিভিন্ন স্থানে তারা (আসামিরা) বলে বেড়াচ্ছে।