আজ ভাওয়াইয়া সংগীতের ভাস্কর ভূপতি ভূষণ বর্মার জন্মদিন

প্রকাশিত: ৭:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার: আজ জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া গানের গীতিকার সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী ভূপতি ভূষণ বর্মার জন্মদিন । ভাওয়াইয়া সংগীতের ভাস্কর : ভূপতি ভূষণ বর্মা — ‌ভূপতি ভূষণ বর্মা ২৮ অক্টোবর ১৯৫৮খ্রি:(১০ কার্তিক ১৩৬৪ বঙ্গাব্দ) কুড়িগ্রাম জেলাধীন উলিপুর উপজেলার আঠার পাইকা গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা প্রয়াত নরেন্দ্রনাথ বর্মা ছিলেন স্কুল শিক্ষক এবং মা প্রয়াত কামেক্ষাময়ী আদর্শ গৃহিণী। বাবা-মায়ের সাত সন্তানের মধ্যে ভূপতি ভূষণ বর্মা দ্বিতীয়। তিনি ১৯৮১ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিজ উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্মজীবন শুরু করেন।পেশাগত জীবনে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে তিনি ১৯৯৩ সালে বিএড কোর্স সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবন থেকে তিনি২০১৮ সালে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ভূপতি ভূষণ বর্মা বাবার অনুপ্রেরণায় সঙ্গীতে প্রথম হাতে খড়ি নেন ওস্তাদ সুরেন্দ্রনাথ বর্মণের কাছে। মাত্র ২২ বছর বয়সে সঙ্গীত অনুরাগী পরিবারের সাধনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শ্বশুর পরিবারের প্রতিষ্ঠিত বেতার শিল্পী সুভাষ চন্দ্র রায় এবং তরণী কান্ত রায়ের সংশ্রব ও অনুপ্রেরণায় শুরু হয় তার সঙ্গীত জীবনের মসৃণ পথ চলা। পরবর্তীকালে তিনি অনন্ত কুমার দেব ,ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দিন ,প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার নুরুল ইসলাম জাহিদ, ভাওয়াইয়া রত্ন রবীন্দ্রনাথ মিশ্রএবং প্রখ্যাত গীতিকার নীলকমল মিশ্রের কাছে নিয়মিত গ্রহণ করেন।অক্লান্ত পরিশ্রম এবং একনিষ্ঠ সাধনার দ্বারা নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন একজন ভাওয়াইয়া সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে। শিল্পী ভূপতি ভূষণ বর্মা ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে ১৯৮২ সালে রংপুর বেতারের স্বীকৃতি পান।বর্তমানে তিনি রংপুর বেতারের বিশেষ গ্রেডের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘ক’ গ্রেডের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত।তাঁর একাধিক ভাওয়াইয়া গানের সিডি ও ক্যাসেট বের হয়েছে । এরমধ্যে মনে জানে মনের কথা ,পাপের কথা বাপে কয়, ঢালুয়া খোঁপা এবংশিল্পী পারুলের সাথে দ্বৈতকণ্ঠে ফেরিওয়ালা সহ চারটি গানের সিডি ও ক্যাসেট উল্লেখযোগ্য। শিল্পী ভূপতি ভূষণ বর্মা সংসার জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জনক। প্রিয় সহধর্মিনী সাধনা রায় ২০০৭ সালে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে মারা যান। ভাওয়াইয়া চর্চা প্রচার -প্রসার এবং নতুন প্রজন্মকে ভাওয়াইয়া সংগীতের তালিম দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর নামক স্থানে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম, ভাওয়াইয়া একাডেমী রংপুর, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ঠাকুর পঞ্চানন স্মৃতি পরিষদ, লোকসংগীত পরিষদ ঢাকা, রংপুর ক্ষত্রিয় সমিতি,আব্বাস -প্যারীমোহন- নায়েব আলী টেপু লোক সংস্কৃতি সংস্থা, পশ্চিমবঙ্গ ভারত , ভাওয়াইয়া সঙ্গীত একাডেমী ও পরিষদ কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত , প্রেসক্লাব উলিপুর, উলিপুর লোকজ উৎসব পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন তারাগঞ্জ, রংপুর , দৈনিক কুড়িগ্রাম খবর, উলিপুর ডট কম, ওস্তাদ মোমতাজ আলী খান সংগীত একাডেমী, ঢাকা , কছিম উদ্দিন উদযাপন পরিষদ ২০১৯, শিল্পকলা একাডেমী কুড়িগ্রাম কর্তৃক সম্মাননা প্রাপ্ত হন। দেশ ও বিদেশের মাটিতে ভাওয়াইয়া সংগীত পরিবেশন করে তিনি অর্জন করেন সুখ্যাতি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ভাওয়াইয়া প্রতিযোগিতায় ৫ বার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৭ সালে শিল্পী বর্মা বাংলাদেশ সংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার খিয়ংসাং প্রদেশের ছাংউওনে” মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভাল”এ ভাওয়াইয়া সংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পী উল্লেখযোগ্য সংগীতানুষ্ঠানের মধ্যে বাংলা একাডেমি আয়োজিত জাতীয় বইমেলা ২০০১, ঢাকা জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত ভাওয়াইয়া উৎসব ২০০৩, ঢাকা সোনারগাঁও লোকজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত লোক সঙ্গীত উৎসব ২০০৪, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ঢাকা আয়োজিত লোকসংগীত উৎসব ২০০৬, এশিয়াটিক সোসাইটি ঢাকা আয়োজিত লোকসংগীত উৎসব ২০০৮, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা মহাশয়ের জন্মোৎসব, কলিকাতা ২০০৮, ঢাকা গুলশান ক্লাব আয়োজিত বাংলা বর্ষবরণ ১৪১৭, ছায়ানট ঢাকা আয়োজিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুল হকের জন্মোৎসব ২০১১, পশ্চিমবঙ্গ মুর্শিদাবাদের ভাষাসৈনিক বরকত উল্লাহ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত বরকত মেলা ২০১২,বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ঢাকা আয়োজিত লোকসংগীত উৎসব ২০১৩,জাতীয় সংসদ ভবন ঢাকা দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত স্পিকার ডক্টর শিরীন শারমিন চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান২০১৪, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দীন মেলা ২০১৪, গৌহাটি, আসাম ভারত আয়োজিত”চিলারায় দিবস”২০১৭, বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত”সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন-২০১৭,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ ২০১৮ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ভাওয়াইয়া বিষয়ক কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভাওয়াইয়া সংগীত একাডেমী ও পরিষদ পশ্চিমবঙ্গ ভারত কর্তৃক ২০১৮, উত্তরবাংলা কলেজ লালমনিরহাট আয়োজিত ভাওয়াইয়া প্রশিক্ষণ কর্মশালা২০১৭, শিলচর আসাম বরাক উপত্যকা লোক মঞ্চ আয়োজিত ভাওয়াইয়া কর্মশালা২০১৬, চাকা সংগঠন গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা ভাওয়াইয়া কর্মশালা২০১৩,জাহানারা নিশি ফাউন্ডেশন মিরপুর ঢাকা আয়োজিত ভাওয়াইয়া কর্মশালা২০১০ ইত্যাদি। শিল্পীর অসামান্য কৃতিত্ব” কছিম উদ্দিন লোকশিল্প সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা। ভাওইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীদের স্মরণে২০১৭ সালে নির্মাণ করেন সংগ্রহশালাটি।গ্রাম বাংলার অতীত ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই সংগ্রহশালার মূল উদ্দেশ্য।