বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড

সাড়ে সাত হাজার পরিবার অভুক্ত, অস্তিত্ব সংকটের মুখে বিআরডিবি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা।

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, কৃষিনির্ভর অর্থনীতির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাতে গড়া একমাত্র অগ্রগণ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বিআরডিবি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।

স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশের তৎকালীন সময়ে একজন সিএসপি ডক্টর আখতার হামীদ খান দ্বিস্তর বিশিষ্ট সমবায় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র মহিলাদের সংগঠিত করে এসব কার্যক্রম শুরু করেন।

স্বাধীনতার পর যা সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিপি) নামে সারাদেশে কার্যক্রম প্রসারিত করে।
পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইআরডি পিকে বিআরডিবিতে রূপান্তর করা হয়।

দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিআরডিবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি কাঠামোগত স্তরে বৈষম্যের নজির পরিলক্ষিত হয়।

একদিকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ কর্তৃক নিয়োগকৃত তথাকথিত রাজস্ব কর্মকর্তা কর্মচারী অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় কেন্দ্রীয় সমিতি কর্তৃক নিয়োগকৃত দের বেতন-ভাতা প্রাপ্তিযোগ থেকে শুরু করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা থেকে এ বৈষম্য স্থায়ীভাবে রূপ নেয়।

বিআরডিবির তথাকথিত রাজস্বের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য প্রতি অর্থবছরে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বরাদ্দ থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রদান করা হয়।

যাক গ্রহণের বা খরচের জন্য কখনোই সরকারের রাজস্ব দপ্তর বা হিসাবরক্ষণ দপ্তর এর প্রয়োজন হয় না তাদের আয়-ব্যয়ের সহ সকল প্রকার আর্থিক লেনদেন নিজেরাই নিজেদের স্বাক্ষরে করে পরিচালনা করে থাকেন

বিআরডিবির মূল কার্যক্রম সঞ্চয় জমা ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দরিদ্র সমবায়ীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। অথচ এ একই কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বছরের-পর-বছর বিভিন্ন নামে কখনো মন্ত্রণালয় হতে আবার কখনো নিজের কৌশলে প্রকল্প অথবা কর্মসূচি সৃষ্টি করেছেন।

নির্দিষ্ট মেয়াদের এসকল প্রকল্পের বা কর্মসূচিতে জনবল নিয়োগ দিয়ে তাদের সাথে করেছেন নানা ধরনের প্রতারণা।
যেমন
*নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদে নিয়োগ না দিয়ে ভিন্ন পদে পদে নিয়োগ
*জাতীয় বেতন স্কেলের নিয়োগ দিয়ে পরবর্তীতে তার সর্বসাকুল্যে বেতনে পদায়ন।
*নির্দিষ্ট বেতন গ্রেডের নিয়োগ দিয়ে পরবর্তীতে তার নিম্নতর অবনমিত করা।
*প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ভিন্ন নাম প্রবর্তন।
*প্রকল্প প্রণয়ন করে তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি কর্মরত জনবলের বেতন ভাতা প্রদান না করে আয় থেকে দায প্রথা প্রবর্তনের মাধ্যমে নাগরিক হিসেবে তাদের সকল প্রকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

2015 সালের সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাকুল্য বেতন স্কেলে বেতন যে বৃদ্ধি পায় থেকে প্রায় 100 ভাগ অর্জন করা সম্ভব না।

ফলের শুরু হয় তাদের মানবেতর জীবনযাপন এর পালা এই নির্যাতন থেকে পরিত্রান পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পহেলা সেপ্টেম্বর 2019 হতে 9-1-2020 পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মানববন্ধন ও গণ অনশন পালন করে।

অবশেষে 9-1-2020 তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে 26 শে মার্চ 2020 তারিখের মধ্যে সকল দাবি-দাওয়ার বাস্তবায়ন করা হবে এই মর্মে আশ্বাস দিলে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

ইতিমধ্যে মহাপরিচালক বিআরডিবি সেপ্টেম্বর 2019 মাসে বিআরডিবির মূল কাঠামোতে প্রকল্প/কর্মসূচির জনবল আত্মীয়করণের প্রচেষ্টায় 13225 পদ বৃদ্ধির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব পেশ করেন। যাতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সুপারিশের আলোকে বিআরডিবির কর্মকর্তাদের কূটকৌশলে প্রকল্পের জনবল বৃদ্ধি না করে বিগত সাড়ে 21 তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আটটি বিভাগের অফিস সহ তার নিয়ন্ত্রণে জন্য 596 টি পদ সৃজনের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

এতে করে সকল আশায় বিপর্যয় ঘটায় প্রকল্প/কর্মসূচির জনবলের মধ্যে নতুন করে হতাশা নেমে এসেছে এমনিতেই বিশ পঁচিশ বছর চাকরি করে শেষ জীবনে বেতন-ভাতা হীন অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে।

নতুন করে শেষ ভরসা বিআরডিবির মূল কাঠামোতে আত্মীয়করণের সুযোগ বঞ্চিত হয়ে তারা আরও মৃতপ্রায় অবস্থায় বসবাস করছে।
এমনিতেই প্রকল্প কর্মসূচির জনবল বিভিন্ন সময়ে তাদের অধিকার প্রাপ্তির জন্য মহামান্য আদালতের দ্বারস্থ হলে সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক বারংবার জনগণের পক্ষে রায় দিল গীতা উপেক্ষা করে চলছে।

বিগত প্রায় এক বছর মহামারী করোনায় যখন জনজীবন বিপর্যস্ত তখন বিআরডিবি হিসাব কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ভাতা না দিয়ে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের দিয়ে মাঠে কাজ করাচ্ছে। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বিগত করোনার প্রথম ঢেউয়ে প্রদত্ত প্রণোদনার টাকা নিয়েও বিআরডিবি নয় করছে।
আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর বিআরডিবি প্রকল্পভুক্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবারে চলছে কান্নার রোল। একদিকে দীর্ঘদিনের বেতন পাতাহীন মানবেতর জীবন তার উপর করোনাকালীন সময় ঈদুল ফিতর।
দেশ যখন মধ্যমা এর স্তর হতে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্তরে ধাবিত হচ্ছে ঠিক তখনই যাদের দিনরাত পরিশ্রম দারিদ্রের কষাঘাত মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে শ্রমিকদের প্রকল্পভুক্ত সাড়ে সাত হাজার পরিবার অমানবিক অত্যাচার সহ্য করে মাসের পর মাস থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা এখনো সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক সামাজিক শারীরিক ও অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত এ অবস্থা চলতে থাকলে জাতির জনকের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে আর এই নির্মমতা হাত থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ বিশ্বমানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতিবাচক কঠোর হস্তক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে এই পরিবারগুলোকে বাঁচাবেন কি?
আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন
https://www.facebook.com/englishbanglanews/
লেখক
আব্দুর রাজ্জাক রাজু
সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজবাড়ী সদর রাজবাড়ী
মোবাইল: 01712546104