নেই যোগ্যতা ও নীতিমালা, তবুও রাবিতে নিয়োগ পেলেন সহকারি অধ্যাপক পদে!

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১
ছবি: অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং ইনস্টিটিউটে সহকারি অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাবিহা ইয়াসমিন নামের একজন প্রার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেন। কিন্তু নিয়োগ পেয়েছেন সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং ইনস্টিটিউটের আইটি (তথ্য ও প্রযুক্তি) বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে। এমন প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ায় উঠেছে বড় রকমের প্রশ্ন।

যা নিয়ে স্বয়ং বিস্ময় প্রকাশ করছেন ইনিস্টিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. অধ্যাপক আবদুল্লাহ শামস বিন তারেক।

সাহেব-বাজার টোয়েন্টিফোরকে তিনি বলেন, ‘এই পদটিতে নিয়োগ দেয়ার জন্য এখনও সে রকম কোনো নীতিমালা তৈরি করা হয়নি। যে প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে সেই প্রার্থীর কী কী মানদণ্ড থাকতে হবে, সেগুলো এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। সাধারণত এই পদগুলোতে নিয়োগের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং বিশেষ যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট কাজে ভালো অভিজ্ঞতা দরকার হয়। সেগুলো আবার বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদনও প্রয়োজন হয়।’

ড. অধ্যাপক আবদুল্লাহ শামস বিন তারেক আরও বলেন, ‘আমি গত ৭ মে পত্রিকার মাধ্যমে যখন জানতে পারলাম এমন একজন প্রার্থীকে ইনস্টিটিউটে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তখন আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ এই সব পদে এমন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা শিক্ষার্থীদেরকে পড়ান না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে বিভিন্ন রকমের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। সাবেক উপাচার্য কোন যোগ্যতার মানদণ্ডে এমন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন তা আমার জানা নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান একটি অবৈধ নিয়োগ সম্পন্ন করেন। সেই অবৈধ নিয়োগের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক পদের বিপরীতে সহকারি অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেন তিনি। রাবি বিজ্ঞান কারিগরী কারখানার প্রশাসক ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক খাইরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিহা ইয়াসমিন (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও) কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক (আইটি) হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সদস্য অধ্যাপক খাইরুল ইসলামের সঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের গভীর সখ্যতার জন্যই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

সাহেব-বাজার টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধান বলছে, একটি স্কুলে চাকরির অভিজ্ঞতা দিয়েই মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছেন ড. সাবিহা ইয়াসমিন। তিনি রাজশাহী ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা পদে কর্মরত ছিলেন। সেই স্কুলে তিনি ২০১৪ সালের পহেলা মার্চ যোগদান করেন।

স্কুলে চাকরির অভিজ্ঞতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক পদে কেউ নিয়োগ পেতে পারেন কিনা তা জানতে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তবে ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ শামস বিন তারেক বলেন, ‘এইসব পদে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই ইনস্টিটিউটে কাউকে নিয়োগ দেওয়া এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই। কারণ যখন শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন হয় তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা স্কলার আছেন এবং কাজ করতে আগ্রহী তাদেরকে নিয়ে এসে ট্রেনিং সেশন করা দেয়া যেতে পারে। এর আগে আমরা এভাবেই কাজ করেছি।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং ইনস্টিটিউটে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারি অধ্যাপক ড. সাবিহা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত নম্বরে কল দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, অযোগ্য প্রার্থী অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। সাবেক উপাচার্য যে অবৈধ নিয়োগটি দিয়ে গেছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয় বিপদে ফেলার একটা কৌশলও বটে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগটিকে অবৈধ ঘোষণা ও তদন্ত করার কারণে আমরা এখন পর্যন্ত তাদেরকে যোগদান করতে দেয়নি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারবে কিনা তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।’

সোর্সঃ সাহেব-বাজার২৪