মুসলিম বিশ্ব

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মুসলিম সেনাদের জন্য সম্মান

প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চিত্র

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কয়েক লাখ মুসলিম সৈনিক ইউরোপে লড়াই করেছেন৷ কিন্তু তাদের সাহসিকতা সবাই প্রায় ভুলতেই বসেছে৷ ইসলামবিদ্বেষ ঠেকাতে নতুন করে তাদের সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷

মেনিন গেট
বেলজিয়ামের ইপরেস শহরে মেনিন গেট তৈরি করা হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে৷ গেটের দেয়ালে বেলজিয়ামে নিহত হওয়া ৫৪ হাজার ৬০৭ জন সৈনিকের নাম খোদাই করা রয়েছে৷ এসব সৈনিকদের কোনো কবরের সন্ধান পাওয়া যায়নি৷

ভারতীয় যোদ্ধা
গেটের দেয়ালে উল্লেখ করা নামের মধ্যে ৪১২ জন ভারতীয় সৈনিকের নাম রয়েছে৷ এদের মধ্যে অনেক মুসলিম যোদ্ধাও রয়েছেন৷ ৫৭ উইলডে রাফেলসের বাহাদুর শাহ১৯১৪ সালের ২৮ অক্টোবর ইপরেসে প্রথম যুদ্ধে প্রাণ হারান৷ ৪০ পাঠান রাইফেলসের নূর আলম প্রাণ হারান ১৯১৫ সালের ২৬ এপ্রিল দ্বিতীয় যুদ্ধে৷ ধারণা করা হয় মোট ৭০ হাজার ভারতীয় সৈনিক প্রাণ হারিয়েছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে৷

দেখানো হয়নি সম্মান
তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতের যোদ্ধারা ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করেছেন৷ অথচ সে যুদ্ধে তাদের সরাসরি কোনো লাভ-ক্ষতির ব্যাপার ছিল না৷ কিন্তু তারপরও এতোদিন তাদের এ আত্মত্যাগের প্রতি তেমন কোনো সম্মান দেখানো হয়নি৷ পশ্চিমা গণমাধ্যম ও সাহিত্যেও বরাবরই শুধু পশ্চিমা সেনাদেরই প্রশস্তি শুনতে পাওয়া যায়৷

ফরাসি-ব্রিটিশ যোদ্ধা
জার্মান বাহিনী যখন ১৯১৪ সালের আগস্টে ফ্রান্সে অভিযান চালায়, ফরাসি পক্ষে লড়াই করতে আলজেরিয়া, মরক্কো ও তিউনিশিয়া থেকে মুসলিম যোদ্ধাদের নিয়ে আসা হয়৷ অন্যদিকে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে, বিশেষ করে ভারত থেকে সৈনিক নিয়ে আসে ব্রিটেন৷ ব্রিটিশ বাহিনী মূলত গড়ে উঠেছিল হিন্দু-মুসলিম-শিখদের নিয়ে, তবে এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন মুসলিম৷

কিবলামুখী কবর
ফ্রান্সের যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সবচেয়ে বড় কবরস্থান নত্র দাম দে লোরেত৷ সেখানে ৫৭৬ জন মুসলিম সৈনিককে মক্কার দিকে মুখ করে কবর দেয়া হয়েছে৷ তবে কয়েকবার এসব কবর মুসলিম-বিদ্বেষীদের আক্রমণের স্বীকার হয়েছে৷

নতুন উদ্যোগ
ফরগটেন হিরোজ ফাউন্ডেশন মুসলিম সৈনিকদের প্রতি ইউরোপের এই মনোভাব পালটাতে চায়৷ ফাউন্ডেশনের বেলজিয়ান প্রতিষ্ঠাতা লুক ফারিয়ার মনে করেন মুসলিম সৈনিকরা না থাকলে মিত্রশক্তির পক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ জয় করা সম্ভব হতো না৷ ইউরোপ জুড়ে যে ইসলামবিদ্বেষ বেড়ে চলেছে, তা ঠেকাতেও এর প্রচার বিশেষ জরুরি বলে মনে করেন ফারিয়ার৷
সূত্র: DW Bangla